খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই জানুয়ারি ২০১৫, ৬:১২ পিএম
বাংলাদেশ নামক বদ্বীপটির ঠিক দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত এক জাদুকরী জনপদ হলো রাঙ্গামাটি। দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত এই অঞ্চলটি মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসনিক সদর দফতর এবং একে এই পাহাড়ি অঞ্চলের রাজধানী শহরও বলা চলে। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে মাত্র ৭৭ কিলোমিটার বা ৪৮ মাইল দূরত্বে অবস্থিত এই শান্ত, স্নিগ্ধ শহরটি গড়ে উঠেছে রূপালী কাপ্তাই হ্রদের পশ্চিম তীরে।
রাঙ্গামাটি কেন ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে এত জনপ্রিয়? তার উত্তর লুকিয়ে আছে এখানকার চোখ জুড়ানো প্রাকৃতিক দৃশ্য, দিগন্তজোড়া সবুজ পাহাড়, মায়াবী লেক, দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ, উপজাতীয় ঐতিহ্যবাহী জাদুঘর এবং আইকনিক ঝুলন্ত সেতুর মাঝে। আপনি যদি নাগরিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির কোলে হারিয়ে যেতে চান, তবে রাঙ্গামাটির প্রতিটি কোনায় আপনার জন্য অপেক্ষা করছে বিস্ময়। চলুন, কোনো ছক বা টেবিলের বাঁধন ছাড়া, একদম গল্পের ছন্দে জেনে নেওয়া যাক রাঙ্গামাটি জেলার সেরা ৩১টি দর্শনীয় স্থানের আদ্যোপান্ত এবং সেখানে যাওয়ার নিখুঁত গাইডলাইন।

Table of Contents
বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত সাজেক ভ্যালিকে বলা হয় ‘রাঙ্গামাটির ছাদ’। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে মেঘ ছুঁয়ে দেখার এই এক স্বর্গীয় অনুভূতি। সাজেক ভ্রমণের জন্য বাঘাইছড়ি উপজেলা সদরে উপজেলা রেস্ট হাউসসহ বিভিন্ন আধুনিক ও আকর্ষণীয় কটেজে থাকা ও খাওয়ার চমৎকার ব্যবস্থা রয়েছে।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটি থেকে নৌপথে লঞ্চযোগে অথবা সড়কপথে বাঘাইছড়ি যাওয়া যায়। রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭.৩০ থেকে ১০.৩০ ঘটিকার মধ্যে লঞ্চ ছাড়ে, যার ভাড়া জনপ্রতি ১৪০ থেকে ২০০ টাকা এবং সময় লাগে ৫-৬ ঘন্টা। আবার বাস টার্মিনাল থেকে সকাল ৭.৩০ থেকে ৮.৩০ ঘটিকার মধ্যে বাস ছাড়ে, ভাড়া জনপ্রতি ২০০ টাকা এবং সময় লাগে ৬-৭ ঘন্টা। এছাড়া ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি খাগড়াছড়ি হয়ে বাঘাইছড়ি আসা সবচেয়ে সুবিধাজনক। বাঘাইছড়ি বা খাগড়াছড়ি থেকে জীপ, যা স্থানীয়ভাবে ‘চাঁদের গাড়ি’ নামে পরিচিত, অথবা মোটর সাইকেলে চড়ে মনমাতানো পাহাড়ি রাস্তা পার হয়ে সাজেক ভ্যালীতে পৌঁছানো যায়।
কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত এই বিশাল কৃত্রিম হ্রদটি রাঙ্গামাটির প্রাণ। চারদিকে পাহাড় আর মাঝখানে শান্ত নীল জলরাশি যেকোনো মানুষের মন ভালো করে দিতে পারে।
যাতায়াত ব্যবস্থা: এই হ্রদে নৌ-ভ্রমণের জন্য রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি ও পর্যটন ঘাটে ভাড়ায় স্পীড বোট ও নানা ধরনের দেশীয় নৌযান পাওয়া যায়। স্পীড বোটের ভাড়া সাধারণত ঘন্টা প্রতি ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং সাধারণ দেশীয় নৌযানের ভাড়া ঘন্টা প্রতি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার মতো পড়ে।
কাপ্তাই হ্রদের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা সুবলং পাহাড়ের কোল বেয়ে নেমে এসেছে এই অপরূপ সুবলং ঝর্ণা। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই ঝর্ণার রূপ চমত্কার হয়ে ওঠে। এই স্থানটি দেখার জন্য রাঙ্গামাটি জেলা সদরে পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন মানসম্মত হোটেলে থাকা ও খাওয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজার, পর্যটন ঘাট কিংবা শহরের বিভিন্ন স্পট থেকে স্পীড বোট বা দেশীয় নৌযানে করে সহজেই সুবলং যাওয়া যায়। স্পীড বোটের ক্ষেত্রে ঘন্টা প্রতি ১২০০-১৫০০ টাকা এবং দেশীয় নৌযানের জন্য ৫০০-৮০০ টাকা ভাড়া গুনতে হয়।
তবলছড়ি ডিয়ার পার্ক এলাকায় অবস্থিত এই ঝুলন্ত সেতুটি রাঙ্গামাটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। দুটি পাহাড়ের মাঝে ঝুলন্ত এই সেতুটির ওপর দাঁড়িয়ে কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্য উপভোগ করা এক দারুণ অভিজ্ঞতা। এখানে পর্যটন কর্পোরেশনের সুব্যবস্থাপনা রয়েছে।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটি শহরের তবলছড়ি হয়ে সড়ক পথে সরাসরি ‘পর্যটন কমপ্লেক্সে’ যাওয়া যায়, যেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে সার্ভিস বাসে করে যারা আসবেন, তারা তবলছড়িতে নেমে সরাসরি অটোরিকশা রিজার্ভ করে (ভাড়া আনুমানিক ৮০-১০০ টাকা) এই ঝুলন্ত ব্রিজে চলে যেতে পারবেন।
বাঘাইছড়ি উপজেলার আর্যপুর নামক স্থানে অবস্থিত এই বনবিহারটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের এক পবিত্র তীর্থস্থান এবং সাধারণ পর্যটকদের জন্য এক শান্ত ও সৌম্য পরিবেশের প্রতীক।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটি থেকে নৌপথে লঞ্চে অথবা সড়কপথে বাঘাইছড়ি যাওয়া যায়। রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭.৩০ থেকে ১০.৩০ টার মধ্যে লঞ্চ ছাড়ে (ভাড়া ১৪০-২০০ টাকা, সময় ৫-৬ ঘন্টা)। বাসে যেতে চাইলে বাস টার্মিনাল থেকে সকাল ৭.৩০ থেকে ৮.৩০ এর মধ্যে বাস ধরতে হবে (ভাড়া ২০০ টাকা, সময় ৬-৭ ঘন্টা)। চট্টগ্রাম বা খাগড়াছড়ি এবং ঢাকা থেকেও সরাসরি বাঘাইছড়ি যাওয়ার বাস পাওয়া যায়। বাঘাইছড়ি সদরে পৌঁছে সেখান থেকে মোটর সাইকেল বা সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে সহজেই এই বনবিহারে পৌঁছানো সম্ভব।
রাঙ্গামাটি সদরের তবলছড়ি এলাকায় এই মার্কেটটি অবস্থিত। পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের নিজস্ব তাঁতে বোনা চাদর, গামছা, থামি এবং বিভিন্ন হস্তশিল্পের এক বিশাল সংগ্রহ পাওয়া যায় এখানে।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটি শহরের যেকোনো স্থান থেকে অত্যন্ত সহজে অটোরিকশা বা প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে এই টেক্সটাইল মার্কেটে যাওয়া যায়। দূরত্ব অনুযায়ী এখানকার সিএনজি বা অটোরিকশার ভাড়া নির্ধারিত হয়।
রাঙ্গামাটি সদরে অবস্থিত এই উপজাতীয় জাদুঘরটি পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও উপজাতিদের প্রাচীন ইতিহাস, সংস্কৃতি, পোশাক, গহনা এবং জীবনযাত্রার নানা নিদর্শন দিয়ে সাজানো হয়েছে। এই জাদুঘরটি সবার পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটি শহরের যেকোনো কেন্দ্রস্থল থেকে লোকাল বা রিজার্ভ অটোরিকশা কিংবা পায়ে হেঁটেও এই জাদুঘরে সহজে পৌঁছানো যায়।
রাঙ্গামাটি সদরে কাপ্তাই হ্রদের একটি দ্বীপের মতো জায়গায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী চাকমা রাজার রাজবাড়ি। এই অঞ্চলের রাজকীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ছুঁয়ে দেখতে পর্যটকরা এখানে আসেন।
যাতায়াত ব্যবস্থা: শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে অটোরিকশা কিংবা নিজস্ব গাড়িযোগে কে.কে.রায় সড়ক হয়ে প্রথমে হ্রদের পাড়ে যেতে হবে। এরপর সেখান থেকে স্থানীয় নৌকাযোগে কাপ্তাই হ্রদ পার হয়ে রাজবাড়িতে যেতে হয়। এছাড়া কাপ্তাই হ্রদের মাধ্যমে সরাসরি নৌপথেও এখানে আসা যায়।
কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গাছড়া এলাকায় এই সুন্দর ও বিশাল চা বাগানটি অবস্থিত। পাহাড়ের ঢালে ঢালে সবুজ চায়ের বাগান দেখার অভিজ্ঞতা সত্যি অন্যরকম।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটি শহর থেকে জল ও স্থল উভয় পথেই কাপ্তাই যাওয়া যায়, যাতে সময় লাগে ১ থেকে ২ ঘন্টা। বাস, মাইক্রোবাস, অটোরিকশা কিংবা ইঞ্জিনচালিত বোট ব্যবহার করা যায়। এছাড়া চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট থেকেও কাপ্তাইয়ের বাস পাওয়া যায়। কাপ্তাই উপজেলার বড়ইছড়ি নামক স্থানে নেমে, সেখান থেকে ওয়াগ্গাছড়া চা এস্টেটের নিজস্ব নৌকাযোগে কর্ণফুলী নদী পার হয়ে এই চা বাগানে প্রবেশ করতে হয়।
কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা এলাকায় অবস্থিত এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এর চারপাশের স্পিলওয়ে এবং জলকপাটের দৃশ্য বেশ আকর্ষণীয়।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটি থেকে বাস, মাইক্রো, অটোরিকশা বা ইঞ্জিন বোটে ১-২ ঘন্টায় কাপ্তাই আসা যায়। চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট থেকেও সরাসরি চন্দ্রঘোনা বা কাপ্তাইয়ের বাস পাওয়া যায়। এখানে প্রবেশ ও স্পিলওয়ে দেখার জন্য কাপ্তাই পিডিবি (PDB) রিসিপশন গেট থেকে অগ্রিম অনুমতি নিতে হবে।
কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনাতেই অবস্থিত এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম এই কাগজ কল। কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত এই শিল্প এলাকাটি দেখার মতো একটি জায়গা।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটি কিংবা চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট থেকে বাস বা মাইক্রোবাসযোগে কাপ্তাই-চন্দ্রঘোনা রুটে এসে চন্দ্রঘোনা পেপার মিলের ১ নং গেটে নামতে হবে। রাঙ্গামাটি থেকে আসতে সময় লাগে ১ থেকে ২ ঘন্টা।
লংগদু উপজেলার কাট্টলী বিল মূলত কাপ্তাই হ্রদেরই একটি অংশ, যা শীতকালে পরিযায়ী পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। মুক্ত জলাশয়ের এই রূপ চোখ জুড়িয়ে দেয়।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭.৩০ থেকে ১০.৩০ ঘটিকার মধ্যে লংগদু যাওয়ার লঞ্চ ছাড়ে। ভাড়া জনপ্রতি ৯০-১৫০ টাকা এবং সময় লাগে ৩-৪ ঘন্টা। এই লঞ্চে যাওয়ার পথেই কাট্টলী বিল পড়ে। এছাড়া লংগদু সদর থেকেও স্থানীয় নৌকা ভাড়া করে কাট্টলীর বিলে যাওয়া যায়।
কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত এই জাতীয় উদ্যান বা ন্যাশনাল পার্কটি প্রাকৃতিক বন, বিশাল সব গাছপালা এবং বন্যপ্রাণীর এক অভয়ারণ্য। বনের ভেতর হাঁটার জন্য এটি চমৎকার জায়গা।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট থেকে জল বা স্থলপথে বাস ও মাইক্রোবাসযোগে কাপ্তাই আসার পথে কাপ্তাই নতুন বাজার আসার ঠিক আগেই ‘কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান’ গেটে নেমে যেতে হবে। যাতায়াতে ১ থেকে ২ ঘন্টা সময় লাগে।
কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত এই চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার বা কিয়াং অত্যন্ত প্রাচীন এবং এর স্থাপত্যশৈলী দেখার মতো।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটি বা চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট থেকে বাসযোগে অথবা চট্টগ্রামের কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে সিএনজি অটোরিকশা চড়ে কাপ্তাই চিৎমরম কিয়াং ঘাটে নামতে হবে। ঘাটে নেমে স্থানীয় নৌকাযোগে কর্ণফুলী নদী পার হয়ে মাত্র কোয়ার্টার কিলোমিটার বা সামান্য একটু হেঁটে গেলেই এই দৃষ্টিনন্দন বিহারটি চোখে পড়বে।
রাঙ্গামাটি সদরে অবস্থিত জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বাংলো এলাকাটি কাপ্তাই হ্রদ দ্বারা পরিবেষ্টিত এক অসাধারণ সুন্দর ও গোছানো স্পট। এর চারপাশের ল্যান্ডস্কেপ পর্যটকদের ভীষণ আকর্ষণ করে।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটি শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে অটোরিকশা, প্রাইভেট গাড়ি কিংবা নৌপথে কাপ্তাই হ্রদ পার হয়ে সরাসরি রাঙ্গামাটি ডিসি বাংলোতে যাওয়া যায়।
জেলা সদরের বালুখালী ইউনিয়নের কিল্ল্যামুড়া এলাকায় কাপ্তাই হ্রদের বুকে গড়ে তোলা হয়েছে এই সুন্দর ইকো ভিলেজ। এখানে কাঠের তৈরি মাচাং ঘর এবং আদিবাসী সংস্কৃতির আমেজ পাওয়া যায়।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারের শহীদ মিনার এলাকা থেকে টুক টুক ইকো ভিলেজে যাওয়ার জন্য নিজস্ব বোটের ব্যবস্থা রয়েছে, যার ভাড়া জনপ্রতি মাত্র ২০ টাকা।
লংগদু উপজেলার জেতবন এলাকায় অবস্থিত এই বৌদ্ধ বিহারটি এর শান্ত পরিবেশ এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের জন্য স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত সুপরিচিত।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭.৩০ থেকে ১০.৩০ টার মধ্যে লংগদুর লঞ্চে উঠতে হবে (ভাড়া ৯০-১৫০ টাকা, সময় ৩-৪ ঘন্টা)। লংগদু সদরে নেমে সেখান থেকে লোকাল মোটর সাইকেল যোগে আনুমানিক ১০০ টাকা ভাড়ায় এই বিহারে পৌঁছানো যায়।
লংগদু উপজেলায় অবস্থিত তিনটিলা বনবিহারটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এক মনোরম ধর্মীয় উপাসনালয়। এর চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার মতো।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাট থেকে সকালের লঞ্চে লংগদু সদরে পৌঁছাতে হবে (ভাড়া ৯০-১৫০ টাকা, সময় ৩-৪ ঘন্টা)। লংগদু সদর থেকে খুব সহজেই স্থানীয় মোটর সাইকেলযোগে অথবা সামান্য পথ পায়ে হেঁটেই এই বিহারে পৌঁছানো সম্ভব।
বিলাইছড়ি উপজেলার ন-কাবা ছড়া এলাকায় অবস্থিত এই ঝর্ণাটি অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষদের জন্য এক দারুণ স্বর্গ। গহীন পাহাড় আর বনের বুক চিরে এই ঝর্ণার পানি আছড়ে পড়ে।
যাতায়াত ব্যবস্থা: ঢাকা থেকে শ্যামলী, মডার্ন বা এস আলম বাসে কাপ্তাই এসে, কাপ্তাই জেটিঘাট থেকে ইঞ্জিনবোটে বিলাইছড়ি আসতে হবে। চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট থেকেও কাপ্তাই জেটিঘাটে আসা যায়। এছাড়া রাঙ্গামাটির তবলছড়ি ঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭.৩০ মিনিটে ইঞ্জিনবোট যাত্রী নিয়ে সকাল ১০টার মধ্যে বিলাইছড়ি পৌঁছায় (ফেরত বোট বিলাইছড়ি থেকে দুপুর ২টায় ছাড়ে)। বিলাইছড়ি সদর লঞ্চঘাট অথবা নলছড়ি থেকে ইঞ্জিনবোটে করে প্রথমে বিলাইছড়ি ডেবারা মাথায় আসতে হবে এবং সেখান থেকে ট্র্যাকিং করে ন-কাবা ছড়া ঝর্ণায় যেতে হবে।
কাপ্তাইয়ের নৌ বাহিনীর ঘাঁটি ‘নৌ জা শহীদ মোয়াজ্জেম’ সংলগ্ন এই পিকনিক স্পটটি অত্যন্ত সুসংগঠিত, নিরাপদ এবং সুন্দর আধুনিক রাইড ও বসার জায়গায় পরিপূর্ণ।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটি বা চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট থেকে বাস, মাইক্রোবাস কিংবা সিএনজি অটোরিকশা যোগে কাপ্তাইয়ের এই চমৎকার নৌ বাহিনীর পিকনিক স্পটে সরাসরি চলে আসা যায়।
কাপ্তাই হ্রদের মাঝে একটি ছোট্ট দ্বীপে গড়ে ওঠা এই পেদা টিং টিং মূলত একটি অভিনব পর্যটন স্পট ও রেস্তোরাঁ। পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী খাবার, বিশেষ করে বাঁশের ভেতর রান্না করা চিকেন বা ‘ব্যাম্বু চিকেন’ এবং হ্রদের তাজা মাছের স্বাদ নিতে পর্যটকরা এখানে আসেন।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজার, পর্যটন ঘাট কিংবা শহরের বিভিন্ন ঘাট থেকে স্পীড বোট বা দেশীয় ইঞ্জিন নৌযানে চড়ে কাপ্তাই হ্রদের বুক চিরে সহজেই পেদা টিং টিং দ্বীপে যাওয়া যায়।
রাঙ্গামাটি সদরে অবস্থিত ফুরমোন পাহাড়টি ট্রেকিং বা পাহাড় চড়ার জন্য বিখ্যাত। এই পাহাড়ের চূড়া থেকে পুরো রাঙ্গামাটি শহর এবং কাপ্তাই হ্রদের এক চোখ জুড়ানো ‘বার্ডস আই ভিউ’ পাওয়া যায়।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটি শহর থেকে সিএনজি অটোরিকশা কিংবা যেকোনো মোটরগাড়ি যোগে প্রথমে ফুরমোন পাহাড়ের পাদদেশে যেতে হবে। এরপর পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি করা পথ বেয়ে হেঁটে হেঁটে চূড়ায় উঠতে হয়।
কাপ্তাইয়ের বড়ইছড়ি এলাকায় অবস্থিত এই বিনোদন কেন্দ্রটি কর্ণফুলী নদীর ঠিক পাড়েই অবস্থিত। পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এটি একটি শান্ত ও নিরাপদ স্পট।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটি বা চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট থেকে বাস বা মাইক্রোবাসযোগে কাপ্তাই যাওয়ার পথে বড়ইছড়ি বাজার পার হয়েই রাস্তার পাশে ‘ওয়াগ্গাছড়া বনশ্রী পর্যটন কমপ্লেক্স’ এর গেটে নেমে যাওয়া যায়। এতে সময় লাগে ১ থেকে ২ ঘন্টা।
নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট এলাকায় কাপ্তাই হ্রদের মাঝে একটি ছোট্ট দ্বীপে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধিস্থল অবস্থিত। এটি আমাদের জাতীয় গৌরবের এক অনন্য স্থান।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটি শহর অথবা নানিয়ারচর বাজার থেকে সরাসরি স্পীড বোট কিংবা দেশীয় লঞ্চ ও ইঞ্জিন বোটের মাধ্যমে হ্রদের বুক চিরে বুড়িঘাটে অবস্থিত এই পবিত্র সমাধিস্থলে যাওয়া যায়। যাতায়াতে সাধারণত ১ থেকে ২ ঘন্টা সময় লাগে।
রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি নামক স্থানে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঠিক পাশেই এই দৃষ্টিনন্দন স্মৃতি ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে শীতকালে এখানে প্রচুর পর্যটকের ভিড় জমে।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা থেকে সিএনজি অটোরিকশা অথবা চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটির মধ্যে চলাচলকারী যেকোনো বাসে উঠে সাপছড়ি নামক স্থানে এই স্মৃতি ভাস্কর্যের সামনে নামা যায়।
কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়ায় অবস্থিত এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এটি উদ্বোধন করেছিলেন। এর চারপাশের সংরক্ষিত এলাকাটি বেশ সুন্দর।
যাতায়াত ব্যবস্থা: চট্টগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটিগামী যেকোনো বাসে উঠলে সরাসরি বেতবুনিয়া নামা যায়। আবার রাঙ্গামাটি শহর থেকেও বাস বা সিএনজি অটোরিকশা রিজার্ভ করে খুব সহজেই বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে পৌঁছানো যায়।
সদর উপজেলার বন্দুকভাঙা ইউনিয়নে অবস্থিত যমচুক মূলত একটি অতি উচ্চ পাহাড়ি এলাকা। এই চূড়ায় উঠলে পুরো বন্দুকভাঙা এলাকার পাহাড় আর হ্রদের এক অবিস্মরণীয় প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকন করা যায়।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটি জেলা সদর থেকে প্রথমে দেশীয় ইঞ্জিন বোটে চড়ে কাপ্তাই হ্রদের ওপর দিয়ে খারিক্ষ্যং, ত্রিপুরাছড়া এবং মাচ্চ্যাপাড়া হয়ে যেতে হবে। বোট থেকে নেমে সেখান থেকে প্রায় ৪ ঘণ্টা মায়াবী পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে যমচুক এলাকায় পৌঁছাতে হয়। এটি মূলত ট্র্যাকিং প্রিয় মানুষদের জন্য উপযুক্ত।
রাঙ্গামাটি ও কাপ্তাইয়ের মাঝে তৈরি করা এই নতুন সংযোগ সড়কটি বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ড্রাইভ ওয়ে। পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে পিচঢালা এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় চারপাশের গভীর খাদ আর পাহাড়ের রূপ মন কেড়ে নেয়।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটি থেকে কাপ্তাই যাওয়ার জন্য সিএনজি অটোরিকশা কিংবা মাইক্রোবাস ভাড়া করে এই সড়ক দিয়ে যাওয়া যায়। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে নিজস্ব গাড়ি বা বাইক নিয়েও এই চমৎকার রোড ধরে রাঙ্গামাটি প্রবেশ করা যায়।
রাঙ্গামাটি সদরের আসামবস্তি এলাকায় নির্মিত এই সেতুটি কাপ্তাই হ্রদের ওপর এক অনন্য সুন্দর সংযোজন। বিকেল বেলা এই ব্রিজের ওপর স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের আড্ডা জমে।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটি শহরের যেকোনো স্থান থেকে তবলছড়ির আসামবস্তি রোড হয়ে অটোরিকশা বা বাইক নিয়ে সরাসরি এই সংযোগ সেতুতে চলে আসা যায়।
রাঙ্গামাটি সদরে অবস্থিত রাজবন বিহার বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম এবং আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত বৌদ্ধ বিহার। এখানকার শান্ত পরিবেশ, প্যাগোডা এবং ধ্যানমগ্ন ভিক্ষুদের উপস্থিতি মনকে এক অদ্ভুত প্রশান্তি দেয়।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটি শহরের টিটিসি রোড (TTC Road) দিয়ে কিংবা রাঙ্গামাটি জিমনেসিয়ামের পাশের রাস্তা ধরে অটোরিকশা, প্রাইভেট কার কিংবা যেকোনো মটরযানে করে সরাসরি রাজবন বিহারে যাওয়া যায়। এছাড়া নৌপথে কাপ্তাই হ্রদ হয়ে বিভিন্ন বোটের মাধ্যমেও এখানে আসার ব্যবস্থা রয়েছে।

রাজস্থলী উপজেলার নারামূখ মারমা পাড়া এলাকায় এই সুন্দর পাহাড়ি ঝুলন্ত সেতুটি অবস্থিত। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ও পাহাড়ি ছড়ার ওপর ঝুলন্ত সেতুর এক চমৎকার মেলবন্ধন দেখা যায় এখানে।
যাতায়াত ব্যবস্থা: রাঙ্গামাটি শহর অথবা চট্টগ্রাম শহর থেকে সরাসরি বাস বা মাইক্রোবাসযোগে রাজস্থলী উপজেলা সদরে আসা যায় এবং রাজস্থলী সদরেই এই চমৎকার সেতুটির অবস্থান।
রাঙ্গামাটির প্রতিটি দর্শনীয় স্থানই যেন এক একটি জীবন্ত ক্যানভাস। পাহাড় আর হ্রদের এই মিতালী দেখতে প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো মানুষ ছুটে আসেন। তবে পাহাড়ি অঞ্চলে ভ্রমণের সময় স্থানীয় সংস্কৃতি ও প্রকৃতির প্রতি সম্মান রেখে পরিবেশ পরিষ্কার রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
মন্তব্য